অনেকে বলে কোনো কাজের শুরুটা ভাল হলে নাকি কাজটা সুন্দর হয়। আবার কেউ কেউ বলে শেষ ভালো যার সব ভালো তার। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় গাইড লাইনটা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। গাইড লাইন সঠিক হলে শুধু শুরু -শেষ নয় সম্পুর্ন কাজটাই সুন্দর হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিকের সময়টা ছিল অনেক মজার (বিশেষ করে মেসের বন্ধুের সাথে কাটানো প্রত্যেকটা মুহূর্ত) কিন্তু অগোছালো। কারন পরিবারে সেই গাইড লাইন ছিল না। মায়ের শাসন আর বোনদের সাপোর্ট ছিল না। কিন্তু প্রথম বর্ষের শেষের দিকটা ছিল ম্যাজিকাল। ছোট বনের বিয়ের অনুষ্ঠানের পর আমার মোটিভেশনাল লেভেল যেমন অনেক উচ্চ ছিল তার সাথে পেয়েছিলাম অসাধারন গাইড লাইনের দেখা। শিশির (Shishir) ভাই, ছোট-বড় রাহাত ভাই (Maruf Rahat )-র গাইড লাইনের সাথে পাভেল(Pavel) ভাইয়ের পাগলামি...অন্যরকমের সব মজা। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে একটা বড় পরিবর্তন আসলো।
যাইহোক, গাইড লাইনকে গুরুত্ব দেওয়ার কারন কী সেইটা বলি- ২০১৭ সালের দ্বিতীয় শুক্রবার (প্রতি বছর ) “The University Physics Competition”[1] নামে একটা অনলাইন বেইসড প্রতিযোগিতায় হয় যেখানে তাদের ওয়েব সাইটে দেওয়া দুইটা প্রোবলেমের মধ্য থেকে একটা প্রবলেমের উপর কাজ করে তার রিপোর্ট পেপার (আমাদের কাছে যা রিসার্চ পেপার) জমা দিতে হয়। গত বছর পাভেল ভাই, আমি ও রিফাত ভাই এক টিমে ছিলাম। তাই আমার উপর চাপ ছিলো না। কিন্তু এ বছর একটু ভয় (হ্যা ভয়ই বলা যায়) পেয়ে গেলাম কারন ভাইদের সাথে এবার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করতে পাড়ব না। আর আমিতো ফিজিক্সের কিছুই পাড়ি না। তাই সিধান্ত নিলাম আমি অংশগ্রহন করবো না। পাড়ি না শুধু শুধু অংশগ্রহন করে লাভ কি?
পাড়ি না শুধু শুধু অংশগ্রন করে লাভ কি?এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের অনেকের কাছেই নেই। কারন আমরা সব কিছুর হিসাব লাভ-ক্ষতি দিয়ে করি। তাই এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করা আমাদের জন্য কষ্টের হয়ে পড়ে। কিন্তু কিছু মানুষ আছে যারা লাভ-ক্ষতির থেকে শেখাটাকে বেশি গুরুত্ব দেয় তাদের জন্য জীবনের সব পরিস্থিতিই আনন্দের হয়। আমিও এই ধরনের কিছু মানুষকে খুব কাছ থেকে প্রতিদিন দেখি। শিশির ভাই - ছোট রাহাত ভাই তাদের মধ্যে অন্যতম। যাদের সাথে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটাই। বেশিরভাগ সময় তাদের সাথে থাকার কারনে আমিও তাদের দ্বারা প্রভাবিত। আরকি লাভ-ক্ষতিটা এখন মুখ্য নয় শেখাটাই সবকিছু। কারন আমি যখন ভাবতে ছিলাম “ পাড়ি না শুধু শুধু অংশগ্রহন করে লাভ কি?” তখন শিশির ভাই আমাকে ডেকে বলছিল (কি বলছিল তা ঠিক ভাইয়ের মত করে বলতে পাড়বো না। কারন ভাই অনেক সুনন্দর করে বলে)- আরে পাগল পাড় না তাতে কি ? অংশগ্রহন করলে শিখতে পাড়বি অনেক কিছু। কিভাবে একটা প্রবলেম নিয়ে লেগে থাকা যায় তা শিখতে পাড়বি। কিভাবে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হয় তা শিখতে পাড়বি। বিশেষ করে টিমমেটদের সাথে মজা করতে পাড়বি। বড় কথা হল মেডেলের জন্য নয়, শেখার জন্য অংশগ্রহন কর মেডেলের জন্য নয় , শেখার জন্য কর । ভাইয়ের কথা শোনার পর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছিল। তাই এতক্ষন বিষয়টাকে যেই অ্যাঙ্গেল থেকে দেখছিলাম এখন অন্য অ্যাঙ্গেল থেকে দেখে মজাই লাগছে (বর্তমান ভাষায় লেখলাম কারন বিষয়টা ভাবতে এখন ভালোই লাগে)। যাইহোক, শেখার জন্য দুই ব্যাচমেট বন্ধু শামিম (Shamim) ও নাজিম (Nazimur) কে নিয়ে রেজিসট্রেশন করলাম। বুঝাই যাচ্ছে শুরুর গাইড লাইনটা অনেক ভালো ছিল। যেহেতু অংশগ্রহন করছি তাই কিছু প্রস্তুতিতো নিতেই হয়। কিন্তু এই অল্প সময়ে ফিজিক্স শেখাতো সম্ভব ছিলো না। তাই একটু অন্য অ্যাঙ্গেল দেখলাম...কীভাবে তা বলার আগে বলি যে, এই প্রতিযোগিতা গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থার থেকে একটু ভিন্ন। কারন এই প্রতিযোগিতা চলাকালীন আমরা শুধুমাত্র জীবিত কোন প্রাণীর সাহায্য ব্যাতীত যেকোনো সোর্স যেমন বই, ইন্টারনেটের সাহায্য নিতে পাড়বো । তাই আমরা বুদ্ধি করলাম যত স্মার্ট সার্স তত স্মার্ট ফলাফল। আর পাভেল ভাইয়ের দেওয়া গাইড লাইনে হল সব স্মার্ট সার্স। সাথে শিক্ষকদের গাইড লাইন।বিশেষ করে, শ্রদ্ধ্যেয় জনি (Enamul) স্যার ও Anock স্যারের শেখানো পদ্ধতিতে পেপার লেখা। ডঃ ইয়াসমিন হক ম্যামের সৃষ্ট ৪৮ ঘণ্টার উৎসব মুখর পরিবেশে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে জীবনে শ্রেষ্ঠ কিছু শিক্ষা অর্জন করতে পেড়েছি। আর এই পথ চলার প্রতিটা ধাপে গাইড লাইনই ছিল আনন্দ, মজা ও সফলতার মূল অনুপ্রেরণা। হ্যা সফলতা! কারন ভাগ্যক্রমে এবছর আমাদের টিম ব্রোঞ্জ মেডেলও পেয়েছে। এই কারনেই আমার কাছে মনে হয় গাইড লাইনটা সঠিখ হলে শুধু শুরু-শেষ নয় সম্পুর্ন কাজটাই সুন্দর হয়। গাইড লাইনটা সঠিখ হলে শুধু শুরু আর শেষ নয় সম্পুর্ন কাজটাই সুন্দর হয়। গল্পের শেষটা আনন্দের খবর দিয়েই শেষ করা যাক- আমাদের শাবিপ্রবি বাংলাদেশের হয়ে ৭টা ব্রোঞ্জ মেডেল জয় লাভ করছে সাথে ৩১ টা অ্যাকমপ্লিশড। সাথে বংলাদেশের আরও তিনটি ভার্সিটি থেকে ১টা সিলভার (ঢাকা ভার্সিটি) ও ৬টা অ্যাকমপ্লিশড ( রাজশাহি ভার্সিটি ১টা, চট্টগ্রাম ভার্সিটি ৫ টা) মেডেল এসেছে। আমরা সবাই সফল। সবথেকে বড় সফলত আমাদের বাংলাদেশের ফিজিক্স আজকে সফল। [2] #physicsSUST #physicsBangladesh #fortheLoveofPhysics 1.http://uphysicsc.com/ 2.http://www.uphysicsc.com/2017_UPC_R... [যেই ছবিটা দেখতে পাচ্ছি এইটাও আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। কারন এইটা দিয়েই শাবিপ্রবি একই সাথে বাংলাদেশ প্রথম এই অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করছে]
Comments
Post a Comment